জিএম মামুন নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের নিদয়া গ্রামে এক কিশোরীর দাফনের ১৬ ঘন্টা পর মরদেহ কবর থেকে উঠানো পেয়েছে তার পরিবার।
তার কাফনের কাপড়ের কিছু অংশ কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে তার মরদেহ পুনরায় মসজিদের ইমাম এর মাধ্যমে আবারো দাফন করা হয়েছে। এমন লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য অসীম কুমার জানান, নিদয়া গ্রামের খোরশেদ সরদার ও সফুরা দম্পত্তির মেয়ে তানজিলা খাতুন মুন্নি (১৪)। বছর চারেক আগে সফুরা খাতুন একই গ্রামের আনজাম হোসেনের সাথে বিয়ে করেন। মুন্নিও তার মায়ের সাথে আনজামের বাড়িতে থাকতো।
পরবর্তীতে মুন্নির ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে। দীর্ঘ তিন বছর ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল সে। তবে ৬ মাস আগে মুন্নির ক্যান্সারের তীব্রতা বেড়ে গেলে সে তার মাকে নিয়ে তার বাবা খোরশেদ সরদারের কাছে চলে আসে। এখানে থেকেই সে ক্যান্সারের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মুন্নি মারা যায়। দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন হয়। শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা মুন্নির কবর খোড়া এবং তার মরদেহ বাইরে বের করা দেখতে পায়। এছাড়া কাফনের কাপড় অনেকাংশে ছেড়া দেখতে পায় তারা। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক ভীতি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে পূণরায় একই জায়গায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
মরদেহ তোলায় কে জড়িত থাকতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে ইউপি সদস্য অসীম কুমার জানান,মুন্নির মা সফুরা খাতুনই মরদেহ তোলার বিষয়ে প্রকাশ্য আনজাম হোসেনকে দায়ী করেছেন। তবে মরদেহ তোলায় তার লাভ সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি ইউপি সদস্য।
স্থানীয় আর একটি সূত্র জানায় অসুস্থ্য মেয়েকে নিয়ে সফুরা খাতুন তার আগের স্বামী খোরশেদ সরদারের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছিলেন। আনজাম হোসেনকে সফুরা কথা দিয়েছিলেন, মুন্নি সুস্থ্য হয়ে উঠলে তাকে নিয়ে তিনি তার বাড়িতে আবার এসে ঘর-সংসার করবেন।
শ্যামনগর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই খবিরউদ্দীন ঘটনাস্থলে যেয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানান, খোরশেদ ও আনজাম হোসেনের মধ্যে স্ত্রী সফুরাকে নিয়ে ব্যাপক বিবাদ ছিল। তবে সেই বিবাদের সাথে মুন্নির মরদেহ উত্তোলনের কি সম্পর্ক থাকতে পারে তা বুঝতে পারছিনা। রহস্য উদঘাটনের জন্য গোপনভাবে তদন্ত চলছে। তবে এই ঘটনা সাথে যারা জড়িত তদন্ত পূর্বক দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
Leave a Reply